বিষয়ের ভূমিকা

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য শক্তি প্রয়োজন, আর এই শক্তির প্রধান উৎস হলো খাদ্য। কিন্তু খাবার থেকে শক্তি পাওয়ার জন্য শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেনের উপস্থিতি অপরিহার্য। এই প্রক্রিয়াকেই বলা হয় শ্বসন। সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ের এই অধ্যায়ে আমরা শিখব কীভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণী শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে এবং কেন এটি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

শ্বসন কেবল শ্বাস নেওয়া বা ছাড়া নয়, এটি কোষীয় স্তরে ঘটা একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এর প্রধান ধাপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

  • কোষীয় শ্বসন: কোষের ভেতরে গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে কোষীয় শ্বসন বলে। এটি অক্সিজেনযুক্ত (বায়ুজীবী) বা অক্সিজেনহীন (অবাত) উভয়ই হতে পারে।
  • বায়ুজীবী শ্বসন: অক্সিজেনের উপস্থিতিতে খাদ্য ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জল এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। সমীকরণটি হলো: গ্লুকোজ + অক্সিজেন -> কার্বন ডাই-অক্সাইড + জল + শক্তি।
  • অবাত শ্বসন: অনেক সময় অক্সিজেনের অভাবেও কোষ শক্তি উৎপন্ন করে। যেমন, অতিরিক্ত শরীরচর্চার সময় পেশিকোষে অবাত শ্বসন ঘটে, যার ফলে ল্যাকটিক অ্যাসিড জমে এবং পেশিতে টান লাগে।
  • মানুষের শ্বাসতন্ত্র: আমরা নাসারন্ধ্র দিয়ে বাতাস গ্রহণ করি, যা শ্বাসনালি হয়ে ফুসফুসে পৌঁছায়। ফুসফুস ও রক্তনালির মাঝে গ্যাসের বিনিময় ঘটে।
  • অন্যান্য প্রাণীর শ্বসন: সব প্রাণী নাক দিয়ে শ্বাস নেয় না। যেমন, আরশোলা শ্বাসনালির মাধ্যমে, কেঁচো ত্বকের মাধ্যমে এবং মাছ ফুলকার সাহায্যে জল থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে।
  • উদ্ভিদের শ্বসন: উদ্ভিদ তাদের পাতার পত্ররন্ধ্র (Stomata) দিয়ে বাতাস থেকে অক্সিজেন নেয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে।

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

প্রশ্ন ১: শ্বসন ও প্রশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: প্রশ্বাস হলো পরিবেশ থেকে অক্সিজেন নেওয়া এবং শ্বাসত্যাগ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেওয়া। আর শ্বসন হলো কোষের ভেতরে খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া।

প্রশ্ন ২: ব্যায়ামের পর পেশিতে টান ধরে কেন?
উত্তর: ব্যায়ামের সময় অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায়। কোষ পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেলে অবাত শ্বসন ঘটায়, ফলে ল্যাকটিক অ্যাসিড জমে পেশিতে ব্যথা বা টান তৈরি হয়।

প্রশ্ন ৩: মাছ কীভাবে জলের নিচে শ্বাস নেয়?
উত্তর: মাছের ফুলকা থাকে, যা জলের মধ্যে দ্রবীভূত অক্সিজেনকে শোষণ করতে সাহায্য করে।

সারসংক্ষেপ

  • শ্বসন হলো জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের মাধ্যম।
  • অক্সিজেন ছাড়া যে শ্বসন হয়, তাকে অবাত শ্বসন বলে।
  • বিভিন্ন প্রাণীর শ্বসন অঙ্গ ভিন্ন ভিন্ন হয় (যেমন- ফুসফুস, ত্বক, ফুলকা)।
  • উদ্ভিদও শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে।