বিষয়ের ভূমিকা

দ্বাদশ শ্রেণির অর্থনীতি পাঠ্যবইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমরা ভারতের স্বাধীনতার পরবর্তী চল্লিশ বছরের অর্থনৈতিক যাত্রা নিয়ে আলোচনা করব। ১৯৫০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনীতি কীভাবে গড়ে উঠেছিল এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে কীভাবে উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়েছিল, তা বোঝা বর্তমান অর্থনীতির ভিত্তি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে ভারত মূলত সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো গ্রহণ করেছিল।

মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি ছিল 'পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা'। নিচে এই সময়ের প্রধান দিকগুলো আলোচনা করা হলো:

  • অর্থনৈতিক পরিকল্পনার লক্ষ্য: স্বাধীনতার পর প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রবৃদ্ধি, আধুনিকীকরণ, স্বনির্ভরতা এবং সাম্য।
  • শিল্পোন্নয়ন ও শিল্পনীতি রেজোলিউশন (১৯৫৬): ভারী শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প সংস্থা গড়ে তোলা হয়। মহালনোবিশ মডেলের প্রভাব এই সময়কার শিল্পনীতিতে স্পষ্ট ছিল।
  • কৃষি সংস্কার: জমিদারি প্রথা বিলোপ এবং ভূমি সংস্কার ছিল তৎকালীন অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
  • সবুজ বিপ্লব: ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে উচ্চ ফলনশীল বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভারতের খাদ্যশস্য উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য আসে।
  • ট্যারিফ ও কোটা ব্যবস্থা: দেশীয় শিল্পকে বিদেশি প্রতিযোগিতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আমদানি শুল্ক এবং কোটা প্রথা চালু করা হয়েছিল।

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

প্রশ্ন ১: পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য কী ছিল?
উত্তর: প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সমাজের সব স্তরের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করা।

প্রশ্ন ২: সবুজ বিপ্লব বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ, সার এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্যশস্যের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তোলার প্রক্রিয়াকেই সবুজ বিপ্লব বলা হয়।

প্রশ্ন ৩: ১৯৫০-১৯৯০ সময়কালে ভারতের শিল্পনীতি কেমন ছিল?
উত্তর: এই সময়কালে সরকার ভারী শিল্পের উপর গুরুত্ব দিয়েছিল এবং বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ক্ষেত্র রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অধীনে ছিল।

সারসংক্ষেপ

  • ভারত ১৯৫০ সালে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুরু করে।
  • সবুজ বিপ্লব ভারতকে খাদ্যশস্যের দিক থেকে স্বাবলম্বী করে তোলে।
  • এই সময়কালে আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল।
  • ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়েছিল।