বিষয়ের ভূমিকা
আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহে জীবন ধারণের জন্য যে উপাদানটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো জল। সপ্তম শ্রেণির ভূগোলের পঞ্চম অধ্যায়ে 'জল' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই অধ্যায়ে আমরা জানতে পারব জল কীভাবে আমাদের গ্রহে অবস্থান করে, জল চক্র কী, মহাসাগরের জল কীভাবে চলাচল করে এবং জোয়ার-ভাটা কেন হয়। জল ছাড়া জীবন অসম্ভব, তাই জলের সঠিক উৎস এবং এর গুরুত্ব বোঝা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।
মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা
এই অধ্যায়ের মূল ধারণাগুলো কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
- জলচক্র (Water Cycle): সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদী ও হ্রদের জল বাষ্পীভূত হয়ে উপরে ওঠে। উপরে গিয়ে এই জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে মেঘে পরিণত হয় এবং ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি, বরফ বা শিলা হিসেবে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়াকে জলচক্র বলে। এটি অবিরাম চলতে থাকে।
- জলের বণ্টন: পৃথিবীর প্রায় ৭১ শতাংশ অংশ জল দ্বারা আবৃত। এর মধ্যে ৯৭.৩ শতাংশ জল মহাসাগরে লবণাক্ত হিসেবে রয়েছে। মাত্র ২.৭ শতাংশ জল মিষ্টি বা পানযোগ্য, যার সিংহভাগ বরফ হিসেবে মেরু অঞ্চলে বা হিমবাহে আটকে আছে।
- মহাসাগরের স্রোত (Ocean Currents): মহাসাগরের জল এক নির্দিষ্ট দিকে নিয়মিতভাবে নদীপ্রবাহের মতো বয়ে চলে, একে মহাসাগরীয় স্রোত বলে। এই স্রোত দুই প্রকার—উষ্ণ স্রোত (বিষুবরেখা থেকে মেরুর দিকে যায়) এবং শীতল স্রোত (মেরু অঞ্চল থেকে বিষুবরেখার দিকে আসে)।
- জোয়ার-ভাটা (Tides): চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে সমুদ্রের জল প্রতিদিন নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠা (জোয়ার) এবং নেমে যাওয়া (ভাটা) প্রক্রিয়াকে জোয়ার-ভাটা বলে। এটি মূলত পৃথিবীর আবর্তন এবং চাঁদের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে ঘটে।
প্রশ্নোত্তর (Q&A)
প্রশ্ন ১: জলচক্র কাকে বলে?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর জল সবসময় বাষ্পীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয় এবং বৃষ্টিরূপে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং এই আবর্তন অবিরাম চলতে থাকে, তাকে জলচক্র বলে।
প্রশ্ন ২: জোয়ার-ভাটা কেন হয়?
উত্তর: চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণের ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠের জল ফুলে ওঠে এবং নেমে যায়। প্রধানত চাঁদের আকর্ষণেই জোয়ার-ভাটা বেশি প্রভাবিত হয়।
প্রশ্ন ৩: মহাসাগরীয় স্রোত কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: মহাসাগরীয় স্রোত দুই প্রকার—উষ্ণ স্রোত এবং শীতল স্রোত।
সারসংক্ষেপ
- পৃথিবীর ৭১% অংশ জল হলেও মিষ্টি জলের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত।
- জলচক্রের মাধ্যমে পৃথিবীর জলের ভারসাম্য বজায় থাকে।
- মহাসাগরীয় স্রোত জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
- জোয়ার-ভাটা মাছ ধরা এবং নৌ চলাচলের ক্ষেত্রে খুবই সাহায্য করে।