বিষয়ের ভূমিকা

NCERT দ্বাদশ শ্রেণি ইতিহাসের চতুর্থ অধ্যায় 'চিন্তাবিদ, বিশ্বাস এবং বিল্ডিং' (Thinkers, Beliefs and Buildings) প্রাচীন ভারতের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তাধারায় এক বিপ্লব ঘটেছিল। এই সময়ে উপনিষদের বিকাশ, জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্মের উত্থান এবং স্তূপ ও মন্দিরের মতো বিশাল স্থাপত্যগুলির নির্মাণ সমাজ ও সংস্কৃতির রূপ বদলে দিয়েছিল। এই অধ্যায়ে আমরা সেই যুগের প্রধান চিন্তাবিদ ও তাদের বিশ্বাসের পাশাপাশি প্রাচীন স্থাপত্যকলার নিদর্শনগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

এই অধ্যায়ের মূল বিষয়গুলিকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

  • খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর ধর্মীয় আলোড়ন: এই সময়ে বৈদিক ধর্মের জটিল আচার-অনুষ্ঠান ও যজ্ঞের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও নতুন দার্শনিকরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। ফলস্বরূপ, নতুন চিন্তাধারা ও ধর্মীয় মতবাদের জন্ম হয়।
  • জৈনধর্মের মূল কথা: মহাবীর জৈন এই ধর্মের প্রচার করেন। জৈনধর্মের মূল ভিত্তি ছিল অহিংসা, কঠোর তপস্যা এবং কর্মফল থেকে মুক্তি বা মোক্ষ লাভ।
  • বৌদ্ধধর্ম ও গৌতম বুদ্ধ: গৌতম বুদ্ধ প্রবর্তন করেন বৌদ্ধধর্ম। তাঁর চার আর্য সত্য এবং অষ্টঙ্গিক মার্গ বা মধ্যমপন্থা সাধারণ মানুষের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
  • স্তূপ নির্মাণ ও বৌদ্ধ স্থাপত্য: সাঁচীর স্তূপের মতো স্থাপত্যগুলি বৌদ্ধ ধর্মের প্রতীক এবং তৎকালীন শিল্পকলার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। স্তূপের চারপাশের তোরণ ও বেদিকায় খোদাই করা ভাস্কর্যে নানা পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক কাহিনীর প্রকাশ ঘটেছে।
  • পৌরাণিক হিন্দুধর্ম ও মন্দির নির্মাণ: গুপ্ত ও পরবর্তী যুগে বৈষ্ণবধর্ম, শৈবধর্ম এবং শক্তি পূজার প্রসার ঘটে। এর ফলে গুহা মন্দির (যেমন ইলোরা, অজন্তা) এবং রাজকীয় পাথরের মন্দির নির্মাণের সূচনা হয়।

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

প্রশ্ন ১: গৌতম বুদ্ধের প্রধান শিক্ষাগুলি কী ছিল?
উত্তর: গৌতম বুদ্ধ দুঃখের কারণ এবং তা থেকে মুক্তির জন্য চার আর্য সত্য ও অষ্টাঙ্গিক মার্গের (সৎ চিন্তা, সৎ বাক্য, সৎ কর্ম ইত্যাদি) ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি অহিংসা এবং জাতপাতের ভেদাভেদের বিরুদ্ধে প্রচার করেছিলেন।

প্রশ্ন ২: সাঁচীর স্তূপ কে সংরক্ষণ করেছিলেন এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: সাঁচীর স্তূপ মধ্যপ্রদেশের ভোপালের কাছে অবস্থিত। ভোপালের বেগমের (শাহজাহান বেগম ও সুলতান জাহান বেগম) আর্থিক সহায়তায় এটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়। এটি প্রাচীন ভারতীয় বৌদ্ধ স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

প্রশ্ন ৩: জৈনধর্মের পঞ্চমহাব্রত কী?
উত্তর: জৈনধর্মের পাঁচটি প্রধান ব্রত হলো—অহিংসা (কাউকে আঘাত না করা), সত্য (সত্য কথা বলা), অস্তেয় (চুরি না করা), অপরিগ্রহ (অতিরিক্ত সম্পত্তি না জমানো) এবং ব্রহ্মচর্য।

সারসংক্ষেপ

এই অধ্যায় থেকে আমরা জানতে পারি যে প্রাচীন ভারতে চিন্তাধারার ক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছিল। বৌদ্ধ ও জৈনধর্মের মতো নাস্তিক বা শ্রমণ ঐতিহ্যগুলি বৈদিক ব্রাহ্মণ্যবাদের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়। অন্যদিকে, স্তূপ, গুহা এবং মন্দিরগুলির নির্মাণ প্রাচীন ভারতের ভাস্কর্য ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি প্রমাণ করে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই অধ্যায়টি ভারতীয় সংস্কৃতির প্রাচীন শিকড় চেনার এক অনন্য সুযোগ।