বিষয়ের ভূমিকা

স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতাগুলির মধ্যে একটি হলো দারিদ্র্য। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক মানুষের সংস্পর্শে আসি যাদের আমরা দরিদ্র বলে মনে করি। তারা হতে পারে গ্রামের ভূমিহীন শ্রমিক, শহরের বস্তিবাসী, নির্মাণ প্রকল্পের দিনমজুর, বা ধাবায় কাজ করা শিশু শ্রমিক। বাস্তবে, দেশের প্রতি চতুর্থ ব্যক্তিই দরিদ্র। এর অর্থ হলো, ভারতে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন (বা ২৬ কোটি) মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। এটি আরও বোঝায় যে, সারা বিশ্বে ভারতেই সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস। এই ভয়াবহতার কারণেই দারিদ্র্য একটি গুরুতর প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

নবম শ্রেণির অর্থনীতির এই তৃতীয় অধ্যায়ে, আমরা দারিদ্র্য নামক এই বহুমাত্রিক সমস্যাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই আলোচনাটি দুটি সাধারণ উদাহরণের মাধ্যমে শুরু হবে – একটি গ্রামীণ এবং একটি শহুরে প্রেক্ষাপটে, যা দারিদ্র্যের প্রকৃতি বুঝতে সাহায্য করবে। এরপর আমরা সমাজ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে দারিদ্র্যকে কীভাবে দেখা হয়, তা জানব। দারিদ্র্যরেখার ধারণা, ভারতে দারিদ্র্যের কারণ এবং সরকার কর্তৃক গৃহীত দারিদ্র্য-বিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও আমরা বিশদভাবে আলোচনা করব। এই অধ্যায়ের মূল উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা এবং এর সমাধানের পথ খোঁজা।

মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

দারিদ্র্যের দুটি সাধারণ চিত্র

দারিদ্র্যের বাস্তব রূপ বুঝতে NCERT বইতে দুটি কাল্পনিক কিন্তু বাস্তবসম্মত উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। একটি শহুরে এবং অন্যটি গ্রামীণ। এই উদাহরণগুলি দারিদ্র্যের বিভিন্ন মাত্রা যেমন ক্ষুধা, অপুষ্টি, নিরক্ষরতা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, এবং সামাজিক বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে।

১. শহুরে দারিদ্র্য: রাম শরণের কাহিনী

৩৩ বছর বয়সী রাম শরণ রাঁচির কাছে একটি ময়দার কলে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে। সে মাসে প্রায় ১৫০০ টাকা আয় করে, যা তার ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়। তার স্ত্রী শান্তা দেবীও অন্যের বাড়িতে কাজ করে প্রায় ৮০০ টাকা আয় করে। তাদের পরিবার একটি এক কামরার ভাড়াবাড়িতে থাকে, যা শহরের উপকণ্ঠে একটি জনাকীর্ণ বস্তিতে অবস্থিত। তার বড় ছেলে পরিবারের সহায়তার জন্য একটি চায়ের দোকানে কাজ করে। তার ১০ বছরের মেয়ে ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা করে। পরিবারের কোনো বাচ্চারই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি।

তাদের কাছে নতুন জামাকাপড় একটি বিলাসিতা; পুরনো জামাকাপড়ই তাদের সম্বল। জুতো পরাও তাদের জন্য স্বপ্নের মতো। শিশুরা অপুষ্টিতে ভোগে এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। এই উদাহরণটি দেখায় যে শহুরে দারিদ্র্য শুধুমাত্র কম আয় নয়, এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাসস্থানের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবকেও বোঝায়।

২. গ্রামীণ দারিদ্র্য: লখা সিং-এর কাহিনী

লখা সিং উত্তর প্রদেশের মীরাটের কাছে একটি ছোট গ্রামে বাস করে। তার পরিবারের নিজস্ব কোনো জমি নেই। তাই সে গ্রামের বড় কৃষকদের জমিতে ছোটখাটো কাজ করে দিন কাটায়। কাজটি খুবই অনিয়মিত এবং আয়ও খুব কম। কখনও কখনও সে সারাদিন কাজ করে মাত্র ৫০ টাকা পায়। তার আট সদস্যের পরিবার দু'বেলা ঠিকমতো খেতে পায় না।

লখা গ্রামের বাইরে একটি কাঁচা কুঁড়েঘরে থাকে। পরিবারের মহিলারা দিনের বেশিরভাগ সময় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ এবং ক্ষেত থেকে পশুখাদ্য জোগাড় করতে ব্যয় করে। তার বাবা যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। তার মাও এখন একই রোগে ভুগছেন এবং জীবন ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসছে। গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও লখা কখনও সেখানে যায়নি। ১০ বছর বয়স থেকেই তাকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। নতুন পোশাক কেনা তাদের জন্য কয়েক বছরে একবার ঘটে। এমনকি সাবান এবং তেলও পরিবারের জন্য একটি বিলাসিতা। এই কাহিনীটি গ্রামীণ ভারতের ভূমিহীন শ্রমিকদের চরম দুর্দশা এবং অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে দারিদ্র্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাহিত হয়।

সমাজ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে দারিদ্র্য

সমাজ বিজ্ঞানীরা দারিদ্র্যকে শুধুমাত্র আয় বা ভোগের স্তরের নিরিখে দেখেন না, বরং এটিকে বিভিন্ন সামাজিক সূচকের মাধ্যমে বিচার করেন। এই সূচকগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • নিরক্ষরতার হার (Illiteracy level)
  • অপুষ্টির কারণে সৃষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব (Lack of general resistance due to malnutrition)
  • স্বাস্থ্যসেবার সুযোগের অভাব (Lack of access to healthcare)
  • কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব (Lack of job opportunities)
  • বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্যানিটেশনের অভাব (Lack of access to safe drinking water and sanitation)

এই বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দারিদ্র্যকে আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করে। আজকাল, দুটি নতুন ধারণা দারিদ্র্য বিশ্লেষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে: সামাজিক বর্জন (Social Exclusion) এবং অзащищенতা (Vulnerability)

সামাজিক বর্জন (Social Exclusion)

এই ধারণা অনুযায়ী, দারিদ্র্যকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত যেখানে দরিদ্রদের ভালো পরিবেশ এবং সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে শুধুমাত্র দরিদ্রদের সাথেই থাকতে বাধ্য করা হয়। সামাজিক বর্জন হলো এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সেইসব সুযোগ-সুবিধা, অধিকার এবং সম্পদ থেকে বাদ দেওয়া হয় যা সমাজের অন্য সদস্যরা উপভোগ করে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে বর্ণপ্রথা এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে নির্দিষ্ট বর্ণের মানুষদের সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। সামাজিক বর্জন শুধুমাত্র কম আয়ই ঘটায় না, এটি দরিদ্রদের আরও বেশি ক্ষতি করে, কারণ এটি তাদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবনে অংশগ্রহণের সুযোগ কেড়ে নেয়।

অзащищенতা (Vulnerability)

অзащищенতা হলো একটি পরিমাপ যা বোঝায় যে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায় (যেমন, অনগ্রসর বর্ণের সদস্য) বা ব্যক্তি (যেমন, একজন বিধবা বা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি) ভবিষ্যতে দরিদ্র হওয়ার বা দরিদ্র থাকার সম্ভাবনা কতটা বেশি। এটি নির্ভর করে বিভিন্ন ঝুঁকি, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ (ভূমিকম্প, সুনামি), সন্ত্রাসবাদ, বা অর্থনৈতিক মন্দার সময় তাদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ কতটা আছে তার উপর। যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর এই ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলা করার ক্ষমতা কম থাকে, তবে তাদের অзащищенতা বেশি। উদাহরণস্বরূপ, যে কৃষকের ফসল বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে এবং তার অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই, সে হঠাৎ করে দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে। অзащищенতা দারিদ্র্যের গতিশীলতাকে বোঝায়, অর্থাৎ মানুষ কীভাবে দারিদ্র্যের মধ্যে প্রবেশ করে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসে।

দারিদ্র্যরেখা (Poverty Line)

দারিদ্র্য পরিমাপের একটি সাধারণ পদ্ধতি হলো আয় বা ভোগের স্তরের উপর ভিত্তি করে একটি 'দারিদ্র্যরেখা' নির্ধারণ করা। দারিদ্র্যরেখা হলো একটি কাল্পনিক রেখা যা একটি দেশের প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।

সংজ্ঞা: কোনো ব্যক্তিকে দরিদ্র বলে গণ্য করা হয় যদি তার আয় বা ভোগের স্তর একটি নির্দিষ্ট "ন্যূনতম স্তরের" নিচে নেমে যায়, যা মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয়। এই ন্যূনতম স্তরটিকেই দারিদ্র্যরেখা বলা হয়।

ভারতে দারিদ্র্যরেখা নির্ধারণ

ভারতে, দারিদ্র্যরেখা নির্ধারণ করার সময়, মৌলিক চাহিদার জন্য প্রয়োজনীয় একটি ন্যূনতম খাদ্যতালিকা, পোশাক, জুতো, জ্বালানি, আলো, শিক্ষা এবং চিকিৎসার মতো বিষয়গুলিকে বিবেচনা করা হয়। এই ভৌত পরিমাণগুলিকে তাদের বর্তমান মূল্যের সাথে গুণ করে আর্থিক মানে প্রকাশ করা হয়।

  • ক্যালোরির প্রয়োজনীয়তা: খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় ক্যালোরির উপর ভিত্তি করে সূত্রটি তৈরি করা হয়। ভারতে, গ্রামীণ এলাকায় একজন ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন গড়ে ২৪০০ ক্যালোরি এবং শহরাঞ্চলে ২১০০ ক্যালোরি প্রয়োজনীয় বলে ধরা হয়। যেহেতু গ্রামীণ এলাকার মানুষ বেশি শারীরিক পরিশ্রম করে, তাই তাদের ক্যালোরির প্রয়োজনীয়তা শহুরে এলাকার চেয়ে বেশি।
  • আর্থিক মান: এই ক্যালোরির প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য, ডাল, সবজি, দুধ, তেল, চিনি ইত্যাদির মাথাপিছু মাসিক ব্যয় গণনা করা হয়। মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই ব্যয় সময়ে সময়ে সংশোধন করা হয়।

এই গণনার ভিত্তিতে, ২০১১-১২ সালের জন্য, একজন ব্যক্তির জন্য দারিদ্র্যরেখা গ্রামীণ এলাকায় মাসিক ৮১৬ টাকা এবং শহরাঞ্চলে ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কম ক্যালোরির প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও, শহরাঞ্চলের জন্য উচ্চতর পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল কারণ শহরাঞ্চলে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেশি। এই হিসাবে, ২০১১-১২ সালে, গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী একটি পাঁচ সদস্যের পরিবার যদি মাসে প্রায় ৪,০৮০ টাকার কম আয় করত, তবে তারা দারিদ্র্যরেখার নিচে বলে বিবেচিত হতো।

ভারতে দারিদ্র্যরেখা সময়ে সময়ে (সাধারণত প্রতি পাঁচ বছরে) ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজেশন (NSSO) দ্বারা পরিচালিত নমুনা সমীক্ষার মাধ্যমে অনুমান করা হয়। আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যরেখা নির্ধারণের জন্য বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি প্রতিদিন ১.৯ ডলারের মতো একটি অভিন্ন মান ব্যবহার করে।

দারিদ্র্যের অনুমান (Poverty Estimates)

ভারতে দারিদ্র্যের অনুপাত সময়ের সাথে সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। নিম্নলিখিত সারণীটি এটি স্পষ্টভাবে দেখায়:

  • ১৯৯৩-৯৪: দারিদ্র্যের অনুপাত ছিল প্রায় ৪৫%।
  • ২০০৪-০৫: এটি কমে দাঁড়ায় ৩৭.২%।
  • ২০১১-১২: দারিদ্র্যের অনুপাত আরও কমে ২২% এ নেমে আসে।

যদিও দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের শতাংশ কমেছে, দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক বছর ধরেই স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ২০১১-১২ সালে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে ২৬৯.৩ মিলিয়নে দাঁড়ায়। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতের দারিদ্র্যের হার ২০%-এর নিচে নেমে আসতে পারে।

অзащищен গোষ্ঠীসমূহ (Vulnerable Groups)

ভারতে দারিদ্র্য সব সামাজিক গোষ্ঠী এবং অর্থনৈতিক বিভাগের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত নয়। কিছু গোষ্ঠী অন্যদের চেয়ে বেশি অзащищен।

  • সামাজিক গোষ্ঠী: তফসিলি জাতি (Scheduled Castes) এবং তফসিলি উপজাতি (Scheduled Tribes) পরিবারগুলি দারিদ্র্যের প্রতি সবচেয়ে বেশি অзащищен। ২০১১-১২ সালের তথ্য অনুযায়ী, তফসিলি উপজাতিদের মধ্যে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪৩ জনই তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে অক্ষম ছিল। একইভাবে, তফসিলি জাতিদের মধ্যে ২৯% দরিদ্র ছিল।
  • অর্থনৈতিক গোষ্ঠী: গ্রামীণ কৃষি শ্রমিক পরিবার এবং শহুরে অনিয়মিত শ্রমিক পরিবারগুলি সবচেয়ে অзащищен। প্রায় ৩৪% অনিয়মিত কৃষি শ্রমিক এবং ৩৩% শহুরে অনিয়মিত শ্রমিক দরিদ্র।
  • পারিবারিক বৈষম্য: পরিবারের মধ্যেও আয় বণ্টনে বৈষম্য দেখা যায়। অনেক দরিদ্র পরিবারে, মহিলা, বয়স্ক ব্যক্তি এবং কন্যাশিশুরা વ્યવস্থিতভাবে পরিবারের উপলব্ধ সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়। তাই তাদের 'দরিদ্রদের মধ্যেও দরিদ্রতম' বলা হয়।

আন্তঃরাজ্য বৈষম্য (Inter-State Disparities)

ভারতে দারিদ্র্যের অনুপাত প্রতিটি রাজ্যে এক নয়। বিহার এবং ওড়িশা ভারতের দুটি সবচেয়ে দরিদ্র রাজ্য হিসেবে পরিচিত, যেখানে দারিদ্র্যের হার যথাক্রমে ৩৩.৭% এবং ৩২.৬%। অন্যদিকে, কেরালা, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, গুজরাট এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলি উচ্চ কৃষি প্রবৃদ্ধির হারের মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে দারিদ্র্য কমাতে সফল হয়েছে। কেরালা মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভূমি সংস্কার পদক্ষেপগুলি দারিদ্র্য কমাতে সাহায্য করেছে।

বৈশ্বিক দারিদ্র্য পরিস্থিতি (Global Poverty Scenario)

বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সমস্ত মানুষ প্রতিদিন ১.৯ ডলারের কম অর্থে জীবনযাপন করে, তারা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যের এই অনুপাত ১৯৯০ সালের ৩৬% থেকে কমে ২০১৫ সালে ১০% হয়েছে। যদিও বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে, তবে এর মধ্যে ব্যাপক আঞ্চলিক পার্থক্য রয়েছে।

  • চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে চীনে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। চীনের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১৯৮১ সালের ৮৮.৩% থেকে কমে ২০১৫ সালে ০.৭% এ দাঁড়িয়েছে।
  • দক্ষিণ এশিয়া: ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটানের মতো দেশগুলিতে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি দ্রুত হয়েছে। এই অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২০০৫ সালের ৩৪% থেকে কমে ২০১৬ সালে ১৫.২% হয়েছে।
  • সাব-সাহারান আফ্রিকা: এখানে দারিদ্র্য वास्तवে ২০০৫ সালের ৫১% থেকে কমে ২০১৫ সালে ৪১% হয়েছে।
  • ল্যাটিন আমেরিকা: এখানকার দারিদ্র্যের অনুপাতও কমেছে।

জাতিসংঘের নতুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান ঘটানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

দারিদ্র্যের কারণ (Causes of Poverty)

ভারতে ব্যাপক দারিদ্র্যের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রধান কারণগুলি হলো:

  1. ঐতিহাসিক কারণ: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার খুব কম ছিল। ঔপনিবেশিক সরকার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে ধ্বংস করে এবং বস্ত্রের মতো শিল্পকে নিরুৎসাহিত করে। উন্নয়নের এই নিম্ন হার স্বাধীনতার পরেও অব্যাহত ছিল, যা দারিদ্র্যের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  2. জনসংখ্যা বৃদ্ধি: স্বাধীনতার পর থেকে জনসংখ্যা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উচ্চ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হারকে কমিয়ে দিয়েছে এবং সম্পদের উপর চাপ বাড়িয়েছে।
  3. কৃষি খাতে নির্ভরশীলতা: ভারতের বেশিরভাগ মানুষ এখনও কৃষির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার কম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক বেকারত্ব এবং অর্ধ-বেকারত্ব দেখা যায়।
  4. আয় ও সম্পদের অসম বন্টন: ভারতে আয় এবং সম্পদের বন্টন অত্যন্ত অসম। ভূমি এবং অন্যান্য সম্পদের অসম মালিকানা এর একটি প্রধান কারণ। ভূমি সংস্কারের মতো বিভিন্ন নীতি চালু করা সত্ত্বেও, বেশিরভাগ রাজ্য সরকার এই নীতিগুলি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে, লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ পরিবার ভূমিহীন বা প্রান্তিক চাষী হিসেবে রয়ে গেছে।
  5. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ: বিভিন্ন সামাজিক বাধ্যবাধকতা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের জন্য, দরিদ্র পরিবারগুলি প্রচুর অর্থ ব্যয় করে, যার জন্য তাদের প্রায়শই ঋণ নিতে হয়। উচ্চ সুদের হারের কারণে তারা ঋণগ্রস্ততায় জড়িয়ে পড়ে, যা দারিদ্র্যের একটি প্রধান কারণ এবং परिणाम উভয়ই।
  6. বেকারত্ব: বেকারত্ব দারিদ্র্যের একটি অন্যতম প্রধান কারণ। শহরে, শিক্ষিত বেকারত্বের সমস্যা বাড়ছে, আর গ্রামে ছদ্মবেশী বেকারত্ব (disguised unemployment) একটি সাধারণ ঘটনা।

দারিদ্র্য-বিরোধী পদক্ষেপ (Anti-Poverty Measures)

ভারতের দারিদ্র্য দূরীকরণের কৌশল দুটি প্রধান স্তম্ভের উপর ভিত্তি করে তৈরি:

১. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করা (Promotion of economic growth)

২. লক্ষ্যভিত্তিক দারিদ্র্য-বিরোধী কর্মসূচি (Targeted anti-poverty programmes)

১. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

গত কয়েক দশকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বিশ্বের মধ্যে অন্যতম দ্রুততম। ১৯৮০-এর দশক থেকে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার দারিদ্র্য হ্রাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে এবং মানব উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহ করে। তবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একা দারিদ্র্য দূর করতে পারে না। এর সুফল সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন।

২. লক্ষ্যভিত্তিক দারিদ্র্য-বিরোধী কর্মসূচি

সরকার দারিদ্র্য দূর করার জন্য বেশ কিছু লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি চালু করেছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নিচে আলোচনা করা হলো:

  • মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন ২০০৫ (MGNREGA): এই আইনটির লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকায় প্রতিটি পরিবারকে বছরে ১০০ দিনের মজুরি-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া। এর এক-তৃতীয়াংশ কাজ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। এই প্রকল্পটি খরা, বনভূমি উজাড় এবং মাটি ক্ষয়ের মতো সমস্যার সমাধান করতেও সাহায্য করে। এটি গ্রামীণ দরিদ্রদের জীবিকার নিরাপত্তা প্রদানে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
  • প্রধানমন্ত্রী রোজগার যোজনা (PMRY - 1993): এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ এলাকা এবং ছোট শহরের শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তাদের ছোট ব্যবসা এবং শিল্প স্থাপনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো।
  • গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি কর্মসূচি (REGP - 1995): এর লক্ষ্যও ছিল গ্রামীণ এলাকা এবং ছোট শহরে স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। দশম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এর অধীনে ২৫ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
  • স্বর্ণজয়ন্তী গ্রাম স্বরোজগার যোজনা (SGSY - 1999): এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দরিদ্র পরিবারগুলিকে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self Help Groups - SHGs) হিসেবে সংগঠিত করে ব্যাংক ঋণ এবং সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার উপরে নিয়ে আসা।
  • প্রধানমন্ত্রী গ্রামোদয় যোজনা (PMGY - 2000): এই কর্মসূচির অধীনে, রাজ্যগুলিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, গ্রামীণ আশ্রয়, গ্রামীণ পানীয় জল এবং গ্রামীণ विद्युতায়নের মতো মৌলিক পরিষেবাগুলির জন্য অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় সহায়তা দেওয়া হয়।
  • অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY): এই প্রকল্পটি 'দরিদ্রতমদের মধ্যে দরিদ্রতম'দের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে।

এই কর্মসূচিগুলির ফলাফল মিশ্র। কিছু ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া গেলেও, সঠিক বাস্তবায়ন এবং লক্ষ্য নির্ধারণের অভাবে অনেক প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছায়নি।

ভবিষ্যতের প্রতিবন্ধকতা (The Challenges Ahead)

ভারতে দারিদ্র্য অবশ্যই হ্রাস পেয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও দারিদ্র্য দূরীকরণ ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি। গ্রামীণ এবং শহুরে এলাকার মধ্যে এবং বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে দারিদ্র্যের ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক এবং অর্থনৈতিক গোষ্ঠী এখনও দারিদ্র্যের প্রতি বেশি অзащищен।

আগামী ১০-১৫ বছরে দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সকলের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার, জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং নারী ও সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অংশগুলির ক্ষমতায়নের উপর জোর দিতে হবে। দারিদ্র্যের আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা শুধুমাত্র একটি ন্যূনতম জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থকে বোঝায়। কিন্তু অনেক বুদ্ধিজীবী মনে করেন যে, দারিদ্র্যের ধারণাটিকে 'মানব দারিদ্র্য' পর্যন্ত প্রসারিত করা উচিত। একজন মানুষ হয়তো নিজেকে খাওয়াতে সক্ষম, কিন্তু তার কি শিক্ষা, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরির নিরাপত্তা, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক সমতা আছে? এই বৃহত্তর চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করাই হবে ভবিষ্যতের প্রধান লক্ষ্য।

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

প্রশ্ন ১: দারিদ্র্যরেখা বলতে কী বোঝায়? ভারতে এটি কীভাবে নির্ধারিত হয়?

উত্তর: দারিদ্র্যরেখা হলো একটি কাল্পনিক রেখা যা আয় বা ভোগের স্তরের উপর ভিত্তি করে দারিদ্র্য পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। যদি কোনো ব্যক্তির আয় বা ভোগের স্তর একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম স্তরের নিচে থাকে, যা তার মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয়, তবে তাকে দরিদ্র বলে গণ্য করা হয়। ভারতে, দারিদ্র্যরেখা মূলত ক্যালোরির প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। গ্রামীণ এলাকায় প্রতিদিন ২৪০০ ক্যালোরি এবং শহরাঞ্চলে ২১০০ ক্যালোরির সমতুল্য খাদ্য এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা (যেমন বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য) পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মাসিক ব্যয়কে দারিদ্র্যরেখা হিসেবে ধরা হয়। এই কাজটি ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজেশন (NSSO) দ্বারা পরিচালিত সমীক্ষার মাধ্যমে করা হয়।

প্রশ্ন ২: ভারতের প্রধান দারিদ্র্য-বিরোধী কর্মসূচিগুলি কী কী?

উত্তর: ভারতের প্রধান দারিদ্র্য-বিরোধী কর্মসূচিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন ২০০৫ (MGNREGA), যা ১০০ দিনের নিশ্চিত কর্মসংস্থান প্রদান করে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হলো প্রধানমন্ত্রী রোজগার যোজনা (PMRY), গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি কর্মসূচি (REGP), স্বর্ণজয়ন্তী গ্রাম স্বরোজগার যোজনা (SGSY), প্রধানমন্ত্রী গ্রামোদয় যোজনা (PMGY) এবং অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY)। এই কর্মসূচিগুলির লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্ব-কর্মসংস্থানে সহায়তা এবং মৌলিক পরিষেবা প্রদান করা।

প্রশ্ন ৩: 'সামাজিক বর্জন' এবং 'অзащищенতা' দারিদ্র্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক কেন?

উত্তর: 'সামাজিক বর্জন' এবং 'অзащищенতা' দারিদ্র্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক কারণ এগুলি দারিদ্র্যকে শুধুমাত্র আর্থিক অভাবের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, একটি বহুমাত্রিক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে।

  • সামাজিক বর্জন: এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে দরিদ্রদের সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় এবং তাদের ভালো সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। এটি দারিদ্র্যের একটি কারণ এবং परिणाम উভয়ই। এটি দরিদ্রদের সামাজিক গতিশীলতাকে বাধা দেয় এবং তাদের আরও দরিদ্র করে তোলে।
  • অзащищенতা: এটি বোঝায় যে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী বা ব্যক্তি ভবিষ্যতে দরিদ্র হওয়ার বা থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অর্থনৈতিক সংকটের মতো সময়ে তাদের মোকাবেলা করার ক্ষমতা কম থাকে। এটি দারিদ্র্যের গতিশীল প্রকৃতিকে বুঝতে সাহায্য করে এবং ঝুঁকি কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

প্রশ্ন ৪: আপনি কি মনে করেন যে দারিদ্র্য নিরসনের বর্তমান কৌশল সফল হয়েছে? কেন?

উত্তর: দারিদ্র্য নিরসনের বর্তমান কৌশল আংশিকভাবে সফল হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচির ফলে ভারতে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে (১৯৯৩-৯৪ সালে ৪৫% থেকে ২০১১-১২ সালে ২২%)। MGNREGA-র মতো প্রকল্পগুলি গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তবে, কৌশলটি সম্পূর্ণ সফল হয়নি। এর কারণগুলি হলো:

  • কর্মসূচিগুলির বাস্তবায়নে দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা।
  • অনেক ক্ষেত্রে, প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে সুবিধা পৌঁছায়নি।
  • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমানভাবে বণ্টিত হয়নি।
  • স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মতো মানব উন্নয়নের সূচকগুলিতে এখনও অনেক উন্নতির প্রয়োজন।

সুতরাং, কৌশলটি সঠিক পথে থাকলেও, এর বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণে আরও উন্নতির প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপ

  • দারিদ্র্য হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি তার জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম মৌলিক চাহিদাগুলি পূরণ করতে পারে না।
  • সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, দারিদ্র্য শুধুমাত্র আয়ের অভাব নয়, এটি সামাজিক বর্জন এবং অзащищенতার মতো ধারণার সাথেও জড়িত।
  • দারিদ্র্যরেখা হলো একটি পরিমাপ যা ন্যূনতম ক্যালোরি গ্রহণ এবং অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
  • ভারতে দারিদ্র্যের হার সময়ের সাথে সাথে হ্রাস পেয়েছে, তবে রাজ্য এবং সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য বিদ্যমান।
  • দারিদ্র্যের প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাব, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, সম্পদের অসম বন্টন এবং বেকারত্ব।
  • সরকারের দারিদ্র্য-বিরোধী কৌশলের দুটি প্রধান দিক হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি (যেমন MGNREGA) বাস্তবায়ন করা।
  • ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ হলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এবং কর্মসংস্থানের মতো মানব উন্নয়নের সূচকগুলিতে উন্নতি সাধন করে দারিদ্র্যকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা।