বিষয়ের ভূমিকা

ভারত একটি কৃষিপ্রধান দেশ। এই দেশের জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ তাঁদের জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষি শুধুমাত্র আমাদের খাদ্যের জোগান দেয় না, বরং বিভিন্ন শিল্পের জন্য কাঁচামালও সরবরাহ করে। যেমন, কার্পাস বয়ন শিল্পের জন্য তুলা, পাট শিল্পের জন্য পাট বা চিনি শিল্পের জন্য আখ - এই সবই আসে কৃষি থেকে। চা, কফি, মশলার মতো কিছু কৃষি পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে আমরা মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করি। তাই, ভারতীয় অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম।

দশম শ্রেণির ভূগোল বইয়ের এই চতুর্থ অধ্যায়ে আমরা ভারতের কৃষিব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। আমরা জানব ভারতে কী কী ধরনের কৃষি পদ্ধতি প্রচলিত আছে, কোন কোন ঋতুতে কী কী ফসল চাষ করা হয়, প্রধান ফসলগুলির ভৌগোলিক অবস্থা কেমন প্রয়োজন এবং ভারতীয় কৃষির উন্নতিতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে। এই অধ্যায়টি আমাদের দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদের একটি মৌলিক স্তম্ভকে বুঝতে সাহায্য করবে।

মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

কৃষির প্রকারভেদ (Types of Farming)

হাজার হাজার বছর ধরে ভারতে কৃষিকাজ চলে আসছে। সময়ের সাথে সাথে, ভৌত পরিবেশ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে চাষের পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ভারতে প্রধানত তিন ধরনের কৃষি পদ্ধতি দেখা যায়:

১. প্রারম্ভিক জীবিকাসত্তা কৃষি (Primitive Subsistence Farming)

এই ধরনের কৃষি এখনও ভারতের কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে практику করা হয়। একে ‘কর্তন ও দহন’ বা ‘ঝুম চাষ’ (Slash-and-burn agriculture) বলা হয়।

  • পদ্ধতি: চাষিরা জঙ্গলের একটি ছোট অংশ পরিষ্কার করে (গাছপালা কেটে ও পুড়িয়ে) জমি তৈরি করেন। সেই জমির ছাই মাটিতে মিশে সারের কাজ করে।
  • সরঞ্জাম: এতে কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার হয় না। কোদাল, কাস্তে, লাঙলের মতো কিছু সাধারণ ও প্রাচীন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
  • নির্ভরশীলতা: এই চাষ সম্পূর্ণভাবে মৌসুমী বৃষ্টি, মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা এবং অন্যান্য পরিবেশগত অবস্থার উপর নির্ভরশীল।
  • উদ্দেশ্য: চাষিরা শুধুমাত্র নিজেদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য ফসল ফলান। উদ্বৃত্ত ফসল প্রায় থাকেই না, তাই বাজারে বিক্রির প্রশ্নও ওঠে না।
  • সমস্যা: কয়েক বছর চাষের পর যখন জমির উর্বরতা কমে যায়, তখন চাষিরা সেই জায়গা ছেড়ে নতুন জায়গায় জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষ শুরু করেন। এর ফলে একদিকে যেমন বনভূমি ধ্বংস হয়, তেমনই মাটির উর্বরতাও স্থায়ীভাবে কমে যায়।
  • আঞ্চলিক নাম: ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঝুম চাষ বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন: উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে ‘ঝুম’, মণিপুরে ‘পামলৌ’, ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলা এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ‘দীপা’, মধ্যপ্রদেশে ‘বেওয়ার’ বা ‘দহিয়া’, অন্ধ্রপ্রদেশে ‘পোডু’ ইত্যাদি।

২. নিবিড় জীবিকাসত্তা কৃষি (Intensive Subsistence Farming)

এই ধরনের কৃষি পদ্ধতি সেইসব অঞ্চলে দেখা যায় যেখানে জনসংখ্যার চাপ অনেক বেশি। এটি ভারতের সবচেয়ে প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির একটি।

  • জমির পরিমাণ: এখানে মাথাপিছু জমির পরিমাণ খুব কম। উত্তরাধিকার আইনের কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জমি ভাগ হতে হতে ছোট ছোট টুকরোতে পরিণত হয়েছে।
  • চাষের লক্ষ্য: মূল লক্ষ্য হলো সীমিত জমি থেকে সর্বাধিক ফসল উৎপাদন করা।
  • পদ্ধতি: অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য উচ্চ মাত্রায় জৈব-রাসায়নিক সার (biochemical inputs) এবং জলসেচের ব্যাপক ব্যবহার করা হয়।
  • শ্রম: এটি একটি শ্রম-নিবিড় কৃষি পদ্ধতি। অর্থাৎ, জমিতে প্রচুর পরিমাণে মানুষের শ্রমের প্রয়োজন হয়। পরিবারের সকল সদস্য মিলেমিশে কাজ করেন।
  • প্রধান ফসল: মূলত ধান এবং গম চাষ করা হয়। তবে একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলানোর চেষ্টাও করা হয়।
  • সমস্যা: জমির উপর প্রচণ্ড চাপের কারণে মাটির উর্বরতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে পরিবেশগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

৩. বাণিজ্যিক কৃষি (Commercial Farming)

এই ধরনের কৃষির মূল উদ্দেশ্যই হলো বাজারে বিক্রির জন্য ফসল উৎপাদন করা এবং লাভ অর্জন করা।

  • আধুনিক উপকরণের ব্যবহার: বাণিজ্যিক কৃষিতে উচ্চ ফলনশীল বীজ (High Yielding Variety - HYV seeds), রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন ট্রাক্টর, হারভেস্টার ইত্যাদির ব্যাপক ব্যবহার করা হয়।
  • জমির আকার: সাধারণত বড় আকারের জমিতে এই চাষ করা হয়।
  • মূলধনের প্রয়োজন: এই চাষে প্রচুর পরিমাণে মূলধনের প্রয়োজন হয়।
  • উদাহরণ: পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় চাল একটি বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে চাষ হয়, যদিও ওড়িশায় এটি একটি জীবিকাসত্তা ফসল।
  • রোপণ কৃষি (Plantation Farming): রোপণ কৃষি এক বিশেষ ধরনের বাণিজ্যিক কৃষি যেখানে একটি বিশাল এলাকা জুড়ে শুধুমাত্র এক ধরনের ফসল চাষ করা হয়। যেমন: চা, কফি, রবার, আখ, কলা ইত্যাদি। এটি কৃষি ও শিল্পের মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন করে। উৎপাদিত ফসল সরাসরি বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর জন্য উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং প্রক্রিয়াকরণ শিল্প অপরিহার্য।

শস্য বিন্যাস (Cropping Pattern)

ভারতের ভৌত বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক বহুত্ব কৃষিক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়। দেশের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য, তন্তু ফসল, শাকসবজি, ফল, মশলা ইত্যাদি চাষ হয়। ভারতে প্রধানত তিনটি শস্য ঋতু রয়েছে:

১. রবি শস্য (Rabi Crops)

  • রোপণের সময়: শীতকালের শুরুতে, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রবি শস্য রোপণ করা হয়।
  • ফসল তোলার সময়: গ্রীষ্মকালের শুরুতে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে এই ফসল কাটা হয়।
  • প্রধান ফসল: গম, বার্লি, মটর, ছোলা এবং সর্ষে হলো প্রধান রবি শস্য।
  • প্রধান উৎপাদক অঞ্চল: পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশ গম ও অন্যান্য রবি শস্য উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।
  • বৃষ্টিপাত: শীতকালে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে যে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়, তা এই ফসলগুলির জন্য অত্যন্ত উপকারী। পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে সবুজ বিপ্লবের সাফল্য রবি শস্যের উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

২. খারিফ শস্য (Kharif Crops)

  • রোপণের সময়: বর্ষার আগমনের সাথে সাথে, অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসে খারিফ শস্য রোপণ করা হয়।
  • ফসল তোলার সময়: সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এই ফসল তোলা হয়।
  • প্রধান ফসল: ধান, ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, তুর (অড়হর), মুগ, বিউলি, কার্পাস, পাট, চিনেবাদাম এবং সয়াবিন হলো গুরুত্বপূর্ণ খারিফ ফসল।
  • প্রধান উৎপাদক অঞ্চল: আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশার উপকূলীয় অঞ্চল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং মহারাষ্ট্র (বিশেষত কোঙ্কন উপকূল) হলো প্রধান ধান উৎপাদক অঞ্চল। আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার মতো রাজ্যে বছরে তিনবার ধান চাষ করা হয়, যেগুলি হলো ‘আউশ’, ‘আমন’ এবং ‘বোরো’।

৩. জাইদ শস্য (Zaid Crops)

  • সময়কাল: রবি এবং খারিফ ঋতুর মধ্যবর্তী সময়ে, অর্থাৎ মূলত মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত একটি ছোট গ্রীষ্মকালীন ঋতু হলো জাইদ।
  • প্রধান ফসল: এই সময়ে তরমুজ, ফুটি, শসা, বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং পশুখাদ্য চাষ করা হয়।
  • বিশেষত্ব: আখ চাষে প্রায় এক বছর সময় লাগে, তাই এটি কোনো নির্দিষ্ট ঋতুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

ভারতের প্রধান ফসলসমূহ (Major Crops in India)

ভারতে বিভিন্ন ধরণের জলবায়ু এবং মাটির কারণে বিভিন্ন প্রকারের ফসল জন্মায়। প্রধান ফসলগুলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:

খাদ্যশস্য

  • ধান (Rice): ভারতের অধিকাংশ মানুষের প্রধান খাদ্য হলো ভাত। ভারত চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধান উৎপাদক দেশ। এটি একটি খারিফ ফসল যার জন্য উচ্চ তাপমাত্রা (২৫°C এর বেশি) এবং উচ্চ আর্দ্রতা সহ ১০০ সেমি-র বেশি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। কম বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে জলসেচের মাধ্যমে ধান চাষ করা হয়। উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সমভূমি, উপকূলীয় অঞ্চল এবং ব-দ্বীপ অঞ্চলে ধান চাষ হয়।
  • গম (Wheat): ধানর পর গম হলো ভারতের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য। এটি দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান খাদ্য। এটি একটি রবি শস্য, যার জন্য শীতল আবহাওয়া এবং ফসল পাকার সময় উজ্জ্বল সূর্যালোক প্রয়োজন। ৫০ থেকে ৭৫ সেমি বৃষ্টিপাত গম চাষের জন্য আদর্শ। গঙ্গা-শতদ্রু সমভূমি এবং দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চল হলো প্রধান গম উৎপাদক এলাকা। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার এবং রাজস্থান প্রধান গম উৎপাদক রাজ্য।
  • মিলেট (Millets): জোয়ার, বাজরা এবং রাগি হলো ভারতে উৎপাদিত গুরুত্বপূর্ণ মিলেট। এগুলিকে মোটা দানাশস্য (coarse grains) বলা হয়, তবে এগুলির পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। যেমন, রাগিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য অনুখাদ্য রয়েছে। জোয়ার মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে উৎপাদিত হয়। বাজরা রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও হরিয়ানায় ভালো জন্মায়। রাগি কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম, ঝাড়খণ্ড এবং অরুণাচল প্রদেশে চাষ হয়।

ডাল (Pulses)

ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ডাল উৎপাদক এবং ব্যবহারকারী দেশ। নিরামিষাশীদের জন্য ডাল প্রোটিনের একটি প্রধান উৎস। তুর (অড়হর), বিউলি, মুগ, মসুর, মটর এবং ছোলা হলো প্রধান ডালশস্য। ডাল চাষের জন্য কম আর্দ্রতা প্রয়োজন এবং এটি শুষ্ক পরিস্থিতিতেও জন্মাতে পারে। শিম্বগোত্রীয় (leguminous) ফসল হওয়ায়, এটি বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে আবদ্ধ করে মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই অন্যান্য ফসলের সাথে আবর্ত পদ্ধতিতে (crop rotation) ডাল চাষ করা হয়। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং কর্ণাটক প্রধান ডাল উৎপাদক রাজ্য।

খাদ্যশস্য ছাড়া অন্যান্য ফসল

  • আখ (Sugarcane): এটি একটি উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর ফসল। ২১°C থেকে ২৭°C তাপমাত্রা এবং ৭৫ থেকে ১০০ সেমি বৃষ্টিপাত আখ চাষের জন্য উপযুক্ত। এটি বিভিন্ন ধরনের মাটিতে জন্মায় এবং এর জন্য প্রচুর কায়িক শ্রমের প্রয়োজন হয়। ভারত ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম আখ উৎপাদক দেশ। চিনি, গুড়, খান্ডসারি এবং মোলাসিস তৈরিতে আখ ব্যবহৃত হয়। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, বিহার, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা প্রধান আখ উৎপাদক রাজ্য।
  • তৈলবীজ (Oilseeds): ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তৈলবীজ উৎপাদক দেশ। চিনেবাদাম, সর্ষে, নারকেল, তিল, সয়াবিন, রেড়ি, কার্পাস বীজ, সূর্যমুখী ইত্যাদি প্রধান তৈলবীজ। এগুলি থেকে প্রাপ্ত তেল রান্নার কাজে এবং সাবান, প্রসাধনী ও মলম তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গুজরাট চিনেবাদাম উৎপাদনে প্রথম। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশ সর্ষে উৎপাদনে অগ্রণী।
  • চা (Tea): চা একটি গুরুত্বপূর্ণ পানীয় ফসল এবং এটি রোপণ কৃষির একটি উদাহরণ। ব্রিটিশরা ভারতে প্রথম চা চাষ শুরু করে। চা গাছের জন্য উষ্ণ, আর্দ্র এবং হিমমুক্ত জলবায়ু প্রয়োজন। প্রচুর ও সুষম বৃষ্টিপাত চা গাছের বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। জল দাঁড়াতে পারে না এমন উর্বর, ঢালু জমি চা চাষের জন্য আদর্শ। এর জন্য প্রচুর পরিমাণে সুলভ ও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। আসাম, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির পাহাড়, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরালা প্রধান চা উৎপাদক অঞ্চল। ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান চা উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ।
  • কফি (Coffee): ভারতীয় কফি তার উৎকৃষ্ট মানের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ভারতে মূলত ‘অ্যারাবিকা’ (Arabica) জাতের কফি চাষ হয়, যা ইয়েমেন থেকে আনা হয়েছিল। কর্ণাটকের বাবা বুদান পাহাড়ে প্রথম কফি চাষ শুরু হয়েছিল এবং আজও নীলগিরি পর্বতের আশেপাশে কর্ণাটক, কেরালা এবং তামিলনাড়ুতে এর চাষ সীমাবদ্ধ।

তন্তু ফসল (Fibre Crops)

  • তুলা (Cotton): ভারত তুলা গাছের উৎপত্তিস্থল বলে মনে করা হয়। কার্পাস বয়ন শিল্পের জন্য তুলা প্রধান কাঁচামাল। দাক্ষিণাত্য মালভূমির কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চলে তুলা চাষ ভালো হয়। এর জন্য উচ্চ তাপমাত্রা, হালকা বৃষ্টিপাত বা সেচ, ২১০ দিন তুষারমুক্ত আবহাওয়া এবং উজ্জ্বল সূর্যালোক প্রয়োজন। এটি একটি খারিফ ফসল এবং এটি পরিপক্ক হতে ৬ থেকে ৮ মাস সময় লাগে। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ প্রধান তুলা উৎপাদক রাজ্য।
  • পাট (Jute): পাটকে ‘সোনালী তন্তু’ (Golden Fibre) বলা হয়। পাট গাছের জন্য প্লাবন সমভূমির উর্বর, পলিমাটি প্রয়োজন যেখানে প্রতি বছর নতুন পলি জমা হয়। এর বৃদ্ধির সময় উচ্চ তাপমাত্রা প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম, ওড়িশা এবং মেঘালয় প্রধান পাট উৎপাদক রাজ্য। চট, দড়ি, বস্তা, কার্পেট এবং অন্যান্য হস্তশিল্প তৈরিতে পাট ব্যবহৃত হয়। তবে এর উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে, পাটজাত দ্রব্য বর্তমানে কৃত্রিম তন্তু এবং নাইলনের মতো সস্তা বিকল্পের সাথে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে।

কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার (Technological and Institutional Reforms)

ভারতের কৃষিব্যবস্থা হাজার হাজার বছর ধরে চলে এলেও, ক্রমাগত প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া এর অগ্রগতি সম্ভব ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকে সরকার কৃষির উন্নতিতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

স্বাধীনতার পরবর্তী সংস্কার

স্বাধীনতার পর, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উপর জোর দেয়। এর মধ্যে প্রধান ছিল:

  • ভূমি সংস্কার: জমিদারি প্রথার অবসান ঘটানো হয়। কৃষকদের হাতে জমির মালিকানা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
  • জোত সংস্কার (Consolidation of holdings): ছোট ছোট ও বিক্ষিপ্ত জমিগুলিকে একত্রিত করে বড় খামারে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করা সহজ হয়।
  • সমবায় আন্দোলন (Cooperation): কৃষকদের একত্রিত করে সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

তবে, এই সংস্কারগুলি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের অভাবে এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে আশানুরূপ ফল দিতে পারেনি।

১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের সংস্কার

এই সময়ে ভারত সরকার কৃষিক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করে।

  • সবুজ বিপ্লব (Green Revolution): প্যাকেজ প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়। উচ্চ ফলনশীল বীজ (HYV), রাসায়নিক সার এবং জলসেচের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে, বিশেষ করে গম এবং ধানের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ভারত খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে।
  • শ্বেত বিপ্লব (White Revolution / Operation Flood): দুগ্ধ উৎপাদনে ভারতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে শ্বেত বিপ্লবের সূচনা হয়। এটি ভারতের দুগ্ধ শিল্পকে বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পে পরিণত করে।

১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের সংস্কার

এই দশকে আরও ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিকাঠামোগত সংস্কার আনা হয়।

  • কৃষকদের জন্য ঋণ সুবিধা: গ্রামীণ ব্যাংক, সমবায় সমিতি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক স্থাপন করে কৃষকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
  • কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC): কৃষকদের সহজে ঋণ পাওয়ার জন্য কিষাণ ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প চালু করা হয়।
  • ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা প্রকল্প (PAIS): কৃষকদের সুরক্ষার জন্য এই বীমা প্রকল্প চালু করা হয়।
  • ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP): ফড়ে ও দালালদের শোষণ থেকে কৃষকদের রক্ষা করার জন্য সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফসলের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঘোষণা করে। এর ফলে কৃষকরা তাদের ফসলের একটি নিশ্চিত দাম পান।
  • কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান: দূরদর্শন এবং রেডিওতে কৃষকদের জন্য বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং কৃষি সংক্রান্ত অনুষ্ঠান প্রচার করা শুরু হয়।

কৃষির উপর বিশ্বায়নের প্রভাব (Impact of Globalisation on Agriculture)

বিশ্বায়ন ভারতীয় কৃষির জন্য নতুন সুযোগ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ দুই-ই নিয়ে এসেছে।

  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ঔপনিবেশিক আমলেও ভারতীয় মশলা, তুলা ইত্যাদি বিদেশে রপ্তানি হতো। ১৯১৭ সালে বিহারের চম্পারণে কৃষকরা নীল চাষ করতে বাধ্য হয়েছিলেন কারণ ব্রিটিশ বস্ত্রশিল্পের জন্য নীলের প্রয়োজন ছিল। সুতরাং, বিশ্বায়নের প্রভাব নতুন নয়।
  • ১৯৯০-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ: ১৯৯০ সালের পর উদারীকরণ নীতির ফলে ভারতীয় কৃষকদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। উন্নত দেশগুলি তাদের কৃষকদের বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি দেয়, যার ফলে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়। এই সস্তা কৃষি পণ্যের সাথে ভারতীয় কৃষকদের প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
  • সমাধানের পথ: ভারতীয় কৃষিকে সফল এবং লাভজনক করতে হলে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের অবস্থার উন্নতি করতে হবে। সবুজ বিপ্লব বিতর্কিত হয়েছে কারণ এটি অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করেছে এবং ধনী ও দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে বৈষম্য বাড়িয়েছে। বর্তমানে, বিশেষজ্ঞরা ‘জিন বিপ্লব’ (Gene Revolution) -এর কথা বলছেন, যেখানে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে নতুন ধরনের বীজ তৈরি করা হবে যা আরও বেশি ফলন দেবে এবং পরিবেশের উপর কম নির্ভরশীল হবে।
  • জৈব কৃষি (Organic Farming): রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়া যে কৃষি পদ্ধতি, অর্থাৎ জৈব কৃষি, আজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এটি পরিবেশের জন্য ভালো এবং এর ফলে উৎপাদিত ফসলের বাজারমূল্যও বেশি। তাই ভারতীয় কৃষকদের জৈব চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

প্রশ্ন ১: ভারতে সবুজ বিপ্লব বলতে কী বোঝায় এবং এর প্রধান প্রভাব কী ছিল?

উত্তর: সবুজ বিপ্লব হলো একটি কৃষি সংস্কার আন্দোলন যা ১৯৬০-এর দশকে ভারতে শুরু হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল উচ্চ ফলনশীল বীজ (HYV), রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং নিয়ন্ত্রিত জলসেচের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে গম ও ধানের উৎপাদন নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করা।
প্রধান প্রভাব:

  • খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা: সবুজ বিপ্লবের ফলে ভারত খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দূর হয়।
  • উৎপাদন বৃদ্ধি: গম এবং ধানের উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
  • আঞ্চলিক বৈষম্য: এর সুফল মূলত পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মতো সেচযুক্ত অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল, যা আঞ্চলিক বৈষম্য বাড়িয়ে তোলে।
  • পরিবেশগত প্রভাব: অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে মাটির উর্বরতা হ্রাস, ভৌমজলের স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যা দেখা দেয়।

প্রশ্ন ২: জীবিকাসত্তা কৃষি এবং বাণিজ্যিক কৃষির মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি কী কী?

উত্তর: জীবিকাসত্তা কৃষি এবং বাণিজ্যিক কৃষির মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:

  • উদ্দেশ্য: জীবিকাসত্তা কৃষির মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকের নিজের পরিবারের ভরণপোষণ। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক কৃষির মূল উদ্দেশ্য হলো বাজারে ফসল বিক্রি করে লাভ করা।
  • জমির আকার: জীবিকাসত্তা কৃষিতে জমির আকার সাধারণত ছোট হয়। বাণিজ্যিক কৃষিতে বড় আকারের খামার বা জমি ব্যবহার করা হয়।
  • প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম: জীবিকাসত্তা কৃষিতে প্রাচীন ও সাধারণ সরঞ্জাম (যেমন লাঙল, কোদাল) ব্যবহৃত হয়। বাণিজ্যিক কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি (যেমন ট্রাক্টর, হারভেস্টার) এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
  • উপকরণ: জীবিকাসত্তা কৃষি মূলত প্রাকৃতিক উর্বরতা ও মৌসুমী বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। বাণিজ্যিক কৃষিতে উচ্চ ফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার এবং জলসেচের ব্যাপক ব্যবহার হয়।
  • শ্রম: জীবিকাসত্তা কৃষিতে মূলত পরিবারের সদস্যরা শ্রম দেন। বাণিজ্যিক কৃষিতে ভাড়া করা শ্রমিক ব্যবহার করা হয়।

প্রশ্ন ৩: ভারতের তিনটি প্রধান শস্য ঋতু সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করুন।

উত্তর: ভারতে প্রধানত তিনটি শস্য ঋতু রয়েছে:

  1. রবি: এটি শীতকালীন ফসল। অক্টোবর-ডিসেম্বরে রোপণ করা হয় এবং এপ্রিল-জুনে কাটা হয়। প্রধান ফসল হলো গম, বার্লি, ছোলা, মটর, সর্ষে।
  2. খারিফ: এটি বর্ষাকালীন ফসল। জুন-জুলাই মাসে বর্ষার শুরুতে রোপণ করা হয় এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে কাটা হয়। প্রধান ফসল হলো ধান, ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, তুলা, পাট।
  3. জাইদ: এটি রবি ও খারিফের মধ্যবর্তী একটি সংক্ষিপ্ত গ্রীষ্মকালীন ঋতু। মার্চ-জুনে এর ফসল ফলে। প্রধান ফসল হলো তরমুজ, শসা, এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি।

প্রশ্ন ৪: ভারতীয় কৃষকদের উন্নতির জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার উল্লেখ করুন।

উত্তর: ভারতীয় কৃষকদের উন্নতির জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হলো:

  • ভূমি সংস্কার: জমিদারি প্রথার বিলোপ এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে জমি বিতরণের চেষ্টা।
  • ঋণ সুবিধা: গ্রামীণ ব্যাংক, সমবায় সমিতি এবং কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সহজ শর্তে এবং কম সুদে ঋণ প্রদান।
  • ফসল বীমা: খরা, বন্যা, শিলাবৃষ্টি বা রোগের কারণে ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ফসল বীমা প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
  • ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP): কৃষকরা যাতে তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন ফসলের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঘোষণা করে।
  • প্রযুক্তিগত সহায়তা: দূরদর্শন ও রেডিওতে কৃষি-সম্পর্কিত অনুষ্ঠান এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রচার করে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ সম্পর্কে সচেতন করা।

সারসংক্ষেপ

এই অধ্যায় থেকে আমরা ভারতীয় কৃষি সম্পর্কে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি জানলাম, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

  • ভারত একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এর অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম।
  • ভারতে তিন ধরনের কৃষি পদ্ধতি প্রচলিত: প্রারম্ভিক জীবিকাসত্তা, নিবিড় জীবিকাসত্তা এবং বাণিজ্যিক কৃষি।
  • ভারতের শস্য ঋতু তিনটি: রবি, খারিফ এবং জাইদ, প্রত্যেকটির নিজস্ব ফসল বিন্যাস রয়েছে।
  • ধান ও গম ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য, অন্যদিকে চা, কফি, আখ, তুলা এবং পাট হলো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ফসল।
  • স্বাধীনতার পর থেকে কৃষির উন্নতিতে ভূমি সংস্কার, সবুজ বিপ্লব, শ্বেত বিপ্লবের মতো একাধিক প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা হয়েছে।
  • সরকার কৃষকদের সহায়তার জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP), কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC) এবং ফসল বীমার মতো প্রকল্প চালু করেছে।
  • বিশ্বায়নের যুগে ভারতীয় কৃষিকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, যার জন্য জৈব কৃষি এবং জিন বিপ্লবের মতো নতুন পথের সন্ধান করা হচ্ছে।