বিহার ভোটের পর এবার টার্গেট বাংলা, আত্মবিশ্বাসী বিজেপি, কটাক্ষ তৃণমূলের

কলকাতা, ১৫ই নভেম্বর, ২০২৫: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের দিকে নজর বিজেপির। গতকাল ফল ঘোষণার পরেই বিজেপির রাজ্য শাখা তাদের এক্স হ্যান্ডেলে লেখে 'নেক্সট ওয়েস্ট বেঙ্গল', যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিহারে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের অভাবনীয় সাফল্য তাদের কর্মীদের মনোবল বাড়িয়েছে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তারা যে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বিহার নির্বাচনে এনডিএ জোট প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, যা অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করেছে। এই জয়ের পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্য স্তরের নেতারাও বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দিতে শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং-এর মতো নেতারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বিহারের এই জয়ের ধারা পশ্চিমবঙ্গেও অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, বিজেপির এই হুঙ্কারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির 'নেক্সট ওয়েস্ট বেঙ্গল' পোস্টের জবাবে তৃণমূল তাদের সামাজিক মাধ্যমে একটি জনপ্রিয় মিম ভিডিও শেয়ার করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছে যে বিজেপির এই স্বপ্ন দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, বিহারের ভোটের সঙ্গে বাংলার রাজনীতির কোনও তুলনা চলে না এবং বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরই আস্থা রাখবেন।

উল্লেখ্য, আগামী বছরের শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গত নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এলেও, তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে সরকার গঠন করেছিল। বিহারের ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)

কৃষকদের জন্য সুখবর: পূর্ব বর্ধমানে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়াল রাজ্য সরকার

পূর্ব বর্ধমান, ১৫ই নভেম্বর, ২০২৫: রাজ্যের কৃষকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। চলতি খরিফ মরশুমে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর পাশাপাশি, কৃষকদের সুবিধার্থে জেলাজুড়ে ৩৩৯টি নতুন ধান ক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলার কৃষকরা। বর্ধমান, যা 'শস্য ভান্ডার' নামে পরিচিত, সেখানকার কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন ক্রয় কেন্দ্রগুলি খোলার ফলে কৃষকদের আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ধান বিক্রি করতে যেতে হবে না, যা তাদের সময় এবং খরচ উভয়ই বাঁচাবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সহায়ক মূল্যে ধান কেনার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং নতুন কেন্দ্রগুলি চালু হওয়ায় এই প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে। কৃষকদের অভিযোগ ছিল যে অনেক সময় ফড়ে বা দালালদের কারণে তারা সঠিক দাম পান না। সরকারের এই পদক্ষেপে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার আরও বেশি সংখ্যক কৃষক সরকারি দামে ধান বিক্রি করার সুযোগ পাবেন, যা তাদের আর্থিক সুরক্ষাকে আরও মজবুত করবে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)

বিজ্ঞানের জটিল তত্ত্ব अब কমিকসের পাতায়, কলকাতায় কর্মশালা বাঙালি গবেষকের

কলকাতা, ১৫ই নভেম্বর, ২০২৫: বিজ্ঞানের কঠিন ও জটিল বিষয়কে শিল্পের ছোঁয়ায় সহজ করে তোলার এক অভিনব যাত্রার পথিকৃৎ বাঙালি গবেষক অর্ঘ্য মান্না। ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা ছেড়ে যিনি এখন কমিকসের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। আজ, শনিবার, কলকাতায় তিনি 'হিস্ট্রি ইন কমিক আর্ট' শীর্ষক একটি কর্মশালার আয়োজন করেছেন, যেখানে তিনি গবেষণা, reimagination এবং దృశ్యগল্প তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে উৎসাহীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

হাওড়ার লিলুয়ার বাসিন্দা, ৩৮ বছর বয়সী অর্ঘ্য মান্না, একটা সময় পর্যন্ত মাইক্রোস্কোপের নিচে ক্যান্সারের কোষ পর্যবেক্ষণেই ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি উপলব্ধি করেন যে গ্রাফিক শিল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি আরও বেশি আনন্দদায়ক। এমআইটি থেকে আইআইটি পর্যন্ত তার এই যাত্রা সত্যিই ব্যতিক্রমী। তার মতে, শিল্প এবং বিজ্ঞান একে অপরকে অনুপ্রাণিত করে এবং তাদের মধ্যে গভীর যোগাযোগ রয়েছে।

২০১৫ সালে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে 'সায়েন্স' ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি কমিক আর্ট তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই থেকেই তিনি বিজ্ঞানের গল্পকে কমিকসের রূপ দিতে শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আইআইটি গান্ধীনগরের 'আর্টিস্ট-ইন-রেসিডেন্স' এবং এমআইটি-র 'রিসার্চ অ্যাফিলিয়েট' হিসেবে দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন। আজকের কর্মশালাটি শহরের শিল্প ও বিজ্ঞানপ্রেমী মানুষের জন্য একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)