শহরকে আরও পরিচ্ছন্ন করতে কলকাতা পুরসভার নতুন উদ্যোগ: রাস্তায় নামছে ২০টি মিনি মেকানিক্যাল সুইপার
কলকাতা, ১৮ই নভেম্বর, ২০২৫: কলকাতাকে আরও পরিচ্ছন্ন এবং পরিবেশবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল কলকাতা পুরসভা। শহরের অলিগলি এবং সংকীর্ণ রাস্তাগুলিতে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য এত দিন বড় আকারের মেকানিক্যাল সুইপার ব্যবহার করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। সেই সমস্যার সমাধান করতে এবার ২০টি অত্যাধুনিক মিনি মেকানিক্যাল সুইপার রাস্তায় নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই যন্ত্রগুলি ব্যাটারিচালিত হওয়ায় পরিবেশ দূষণের কোনও আশঙ্কা নেই।
পুরসভা সূত্রে খবর, বুধবার মেয়র পারিষদের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে। এই ছোট আকারের 'স্বয়ংক্রিয় ঝাড়ু' গুলি শহরের সেই সমস্ত জায়গায় পৌঁছে যেতে সক্ষম হবে, যেখানে বড় গাড়ি পৌঁছতে পারত না। এর ফলে শহরের সার্বিক সাফাই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন পুরকর্তারা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে 'স্মার্ট সিটি'-র পথে মহানগর আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি গাড়ি নামানো হলেও, আগামী দিনে এর সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এই উদ্যোগের পাশাপাশি, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংহত করতে ধাপার ডাম্পিং গ্রাউন্ডের উপর চাপ কমানোর জন্যেও কলকাতা পুরসভা তৎপর হয়েছে। প্রতিদিন শহরে যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমা হয়, তার চাপ সামলাতে বিকল্প একটি আধুনিক 'ল্যান্ডফিল' সাইট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর জন্য জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পুরসভা যে বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা বলাই বাহুল্য।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
শীতের অপেক্ষায় রাজ্যবাসী: নিম্নচাপের প্রভাবে তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী
কলকাতা, ১৮ই নভেম্বর, ২০২৫: নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় এসে গেলেও জাঁকিয়ে শীতের দেখা এখনও মেলেনি রাজ্যে। বরং গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রার পারদ সামান্য ঊর্ধ্বমুখী। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি নিম্নচাপ অঞ্চলের কারণেই রাজ্যে উত্তুরে হাওয়া প্রবেশে বাধা পাচ্ছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিন রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা বেশিই থাকবে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আপাতত নিম্নচাপটি শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় সেটি আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও, জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস রাজ্যে প্রবেশ করায় ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা যাচ্ছে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রাও খুব একটা কমছে না। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে রাজ্যবাসীকে এখনই হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলেই উত্তুরে হাওয়া আবার অবাধে রাজ্যে প্রবেশ করতে শুরু করবে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে এবং ডিসেম্বরের শুরুতে জাঁকিয়ে শীত পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত তাই পুরোদমে শীতের আমেজ পেতে রাজ্যবাসীকে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য রাজ্য সরকারের বড় উদ্যোগ: "ফ্রি-শিপ" প্রকল্পে বিনামূল্যে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ
কলকাতা, ১৮ই নভেম্বর, ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গের মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য রাজ্য সরকার এক বিশেষ প্রকল্প চালু করেছে, যার নাম "ফ্রি-শিপ" (WBFS) প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের পড়ুয়ারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইঞ্জিনিয়ারিং বা ফার্মেসির মতো প্রযুক্তিগত কোর্স করার সুযোগ পাবে। সম্প্রতি নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য এই প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা রাজ্যের বহু পড়ুয়ার কাছে আশার আলো নিয়ে এসেছে।
২০১১ সালে এই প্রকল্পটি শুরু হলেও, অনেকেই এর বিষয়ে অবগত ছিলেন না। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল, অর্থের অভাবে যেন কোনও মেধাবী পড়ুয়ার উচ্চশিক্ষা থেমে না যায়। যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীর পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম এবং যারা পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা (WBJEE) বা JEE Main-এর মতো প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
আগ্রহী ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন এবং অফলাইন, দুই মাধ্যমেই আবেদন করতে পারবে। সরকারি কলেজে পাঠরত পড়ুয়ারা সরাসরি কলেজ থেকে ফর্ম সংগ্রহ করে আবেদন করতে পারবে, অন্যদিকে বেসরকারি কলেজের পড়ুয়ারা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য এবং এর ফলে রাজ্যের বহু দুঃস্থ ও মেধাবী পড়ুয়া তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছেন শিক্ষামহল।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)