পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে বহু প্রতীক্ষিত 'পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রচার নীতি, ২০২৬' (West Bengal Investment Promotion Policy 2026)। রাজ্যকে শিল্পবান্ধব করে তুলতে এবং লগ্নিকারীদের আকৃষ্ট করতে এই নীতিতে বিশেষ ছাড় ও সুযোগ-সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শিল্পের গতিপ্রকৃতি বদলাতে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে এই নীতি অত্যন্ত কার্যকরী হবে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও বাণিজ্য মহল।

নতুন এই নীতি অনুযায়ী, অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ও থ্রাস্ট সেক্টরের শিল্পগুলিতে স্থায়ী মূলধন বিনিয়োগের ওপর ১২০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা বা ইনসেন্টিভ প্রদান করা হবে। সাধারণ উৎপাদনকারী ইউনিটগুলির ক্ষেত্রে উদ্ভিদ ও যন্ত্রাংশে বিনিয়োগের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা মিলবে। শিল্প স্থাপন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রশাসনিক ছাড়পত্র প্রদানে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা সরকারের এই পদক্ষেপে অত্যন্ত আশাবাদী এবং এর ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো দ্রুত বিকশিত হবে বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেছেন।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)

রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো এবং পরিবেশগত বিতর্ক

অন্যদিকে, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো উদযাপনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক ও আইনি জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের এক মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে এই পরিবেশগত সংবেদনশীল ইস্যুটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। পরিবেশবিদ এবং নদী ও জলাশয় রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, জাতীয় পরিবেশ আদালত (NGT) এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, পরিবেশ এবং জলজ বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করার জন্য রবীন্দ্র সরোবরের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের জনবহুল ধর্মীয় উৎসব বা আচার-অনুষ্ঠান করা যাবে না।

আদালতের এই নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যদি বৃহৎ জমায়েত ও পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তা জলাশয়ের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা। সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়ার কথা বলা হলেও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আদালতের আগের রায়কে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সে দিকেই এখন নজর রয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশপ্রেমীদের।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)