দৃষ্টিহীন প্রেমিকের ‘চোখ’ হয়ে ওঠা বন্ধু!
ভালোবাসার গল্পে একজন আরেকজনের জন্য জীবন দিয়ে দেয়, এমনটা তো হামেশাই শোনা যায়। কিন্তু আজ শোনাবো এক অদ্ভুত বন্ধুত্বের গল্প, যা যেকোনো প্রেমের কাহিনীকেও হার মানাবে। এখানে একজন প্রায় অন্ধ, আর অন্যজন তার চোখ হয়ে সারাজীবন পাশে থাকে। বলছি পিস্তল চিংড়ি (Pistol Shrimp) আর গোবি মাছের (Goby Fish) কথা। ওদের এই জুটিটা দেখলে আপনার মনে হবেই, প্রেম শুধু দুজন বিপরীত লিঙ্গের মধ্যেই হয় না, বন্ধুত্বেও ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে।
পিস্তল চিংড়ি নামের এই প্রাণীটি সমুদ্রের তলায় গর্ত করে নিজের বাড়ি বানাতে ওস্তাদ। কিন্তু হায়! তার দৃষ্টিশক্তি প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে, যখন সে তার প্রিয় ঘর বানানোর কাজ করে বা খাবার খুঁজতে বের হয়, তখন শিকারি মাছের সহজ টার্গেটে পরিণত হয়। এখানেই এন্ট্রি হয় গল্পের হিরো, গোবি মাছের।
এই দুই অসমবয়সী এবং ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে এক অদ্ভুত বোঝাপড়া তৈরি হয়। চিংড়ি তার জন্য নিরাপদ একটি বাড়ি তৈরি করে, আর তার বিনিময়ে গোবি মাছ হয় চিংড়ির সারাজীবনের বিশ্বস্ত প্রহরী বা বলা ভালো, তার ‘চোখ’।
ব্যাপারটা কীভাবে কাজ করে, জানেন? চিংড়ি যখন গর্তের বাইরে আসে, সে তার অ্যান্টেনা বা শুঁড় সবসময় গোবি মাছের শরীরের ওপর ছুঁইয়ে রাখে। গোবি মাছ তার প্রখর দৃষ্টি দিয়ে চারপাশে নজর রাখে। কোনো বিপদ দেখলেই সে লেজ দিয়ে চিংড়িকে একটা বিশেষ সিগন্যাল দেয়। সিগন্যাল পাওয়া মাত্রই দুই বন্ধু একসাথে চোখের পলকে গর্তে ঢুকে পড়ে। রাতেও তারা একসাথেই সেই গর্তে ঘুমায়।
এই সম্পর্কটা এতটাই গভীর যে, চিংড়ি তার বন্ধু গোবি মাছকে ছাড়া এক মুহূর্তও গর্তের বাইরে থাকে না। গোবি মাছ আশেপাশে না থাকলে সে গর্ত পরিষ্কার করা বা খাবার খোঁজার মতো জরুরি কাজও করে না। কারণ সে জানে, তার ‘চোখ’ ছাড়া এই সুন্দর পৃথিবীটা তার জন্য ভীষণ বিপজ্জনক।
ভালোবাসা মানে তো একে অপরের দুর্বলতাকে ঢেকে দিয়ে শক্তি হয়ে ওঠা, তাই না? পিস্তল চিংড়ি আর গোবি মাছের এই নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। একজন তার পরিশ্রম দিয়ে অন্যজনের থাকার জায়গা করে দেয়, আর অন্যজন তার দৃষ্টি দিয়ে বন্ধুকে সারাজীবন রক্ষা করে। ওদের দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি কত অদ্ভুতভাবেই না শিখিয়ে দেয় যে, ভালোবাসার জন্য শুধু মনের মিলটাই জরুরি, প্রজাতি বা লিঙ্গ নয়।