এসআইআর ঘিরে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি, প্রতিবাদে পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা, ২৫শে নভেম্বর, ২০২৫: রাজ্যের ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) কর্মসূচিকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার, এই কর্মসূচির প্রতিবাদে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় এক বিশাল পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বনগাঁর ত্রিকোণ পার্ক থেকে শুরু হয়ে মতুয়া-অধ্যুষিত ঠাকুরনগর পর্যন্ত এই মিছিলে অংশ নেন হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে বেছে বেছে মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।
এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, "বিজেপি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার খেলা খেলছে। বিহারে তারা এই খেলা খেলে জিতেছে, কিন্তু বাংলায় আমরা তা হতে দেব না।" তাঁর আরও দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই প্রক্রিয়াটি আসলে তাড়াহুড়ো করে কার্যকর করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বহু মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই পদযাত্রার মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেও একটি নির্দিষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, কারণ নাগরিকত্ব এবং ভোটার তালিকায় নাম থাকা তাঁদের জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
এসআইআর-এর চাপেই কি আত্মঘাতী প্যারাটিচার?
নদিয়ায় শিক্ষিকার সুইসাইড নোট ঘিরে তোলপাড়
এসআইআর বিতর্ক এক মর্মান্তিক মোড় নিয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। সেখানকার এক প্যারাটিচার তথা বুথ লেভেল অফিসার (BLO) রিঙ্কু তরফদারের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৫১ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকার রেখে যাওয়া একটি সুইসাইড নোটে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের এসআইআর কর্মসূচিকে তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে। নোটে তিনি "অমানবিক কাজের চাপ"-এর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে তিনি প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন, কারণ তাঁর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছিল না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং এই সুইসাইড নোটটি জনসমক্ষে এনেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, "এই এসআইআর-এর জন্য আর কতজন প্রাণ দেবেন?" এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল স্তরের কর্মীদের উপর প্রশাসনিক কাজের অতিরিক্ত বোঝা এবং তার পরিণাম নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
সীমান্ত পরিদর্শনে রাজ্যপাল, খতিয়ে দেখছেন 'রিভার্স মাইগ্রেশন' পরিস্থিতি
এসআইআর আতঙ্কে দেশ ছাড়ার অভিযোগ
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার আবহে 'রিভার্স মাইগ্রেশন' বা বাংলাদেশ অভিমুখে উল্টো স্রোতে দেশ ছাড়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আজ মুর্শিদাবাদ সফরে যান পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ডঃ সি. ভি. আনন্দ বোস। সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছিল যে, এসআইআর আতঙ্কে বহু মানুষ, বিশেষত যাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতির সত্যতা যাচাই করতেই রাজ্যপালের এই সফর বলে রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে।
এর আগে গতকাল, অর্থাৎ সোমবার, রাজ্যপাল উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সীমান্তে ঠিক কী পরিস্থিতি, মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক কাজ করছে কিনা এবং সত্যিই দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে কিনা, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখাই রাজ্যপালের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। এসআইআর-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে রাজ্যপালের এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)